মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ রাত ০৬:৪৮:১৮
মতলবে পাম্পে জ্বালানি সংকট, খোলা বাজারে লিটার ২০০ টাকা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অসাধু চক্র। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ নেই বলে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, বাইরে খোলা বাজারে বোতলজাত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মোটরসাইকেল আরোহীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মতলব উত্তর ও আশপাশের উপজেলার পাম্পগুলো গত কয়েকদিন ধরে তেলের তীব্র সংকটের কথা বলে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
নিরুপায় হয়ে মোটরসাইকেল চালকরা রাস্তার পাশের ছোট দোকান থেকে দ্বিগুণেরও বেশি দামে নিম্নমানের তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে যেমন বাড়ছে খরচ, তেমনি ইঞ্জিনের ক্ষতি নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, পাম্পের কর্মীরা তেল না থাকার কথা বললেও পাশের বাজারেই বোতলে করে ২৫০-৩০০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। এটি একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কাজ। পাম্প থেকে তেল সরিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দিচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই; অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মজুতদার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাম্প থেকে তেল সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মতলব উত্তরে একটি মাত্র পাম্প রয়েছে। সেখানে গতকাল পর্যন্ত ডিজেল ১০ হাজার লিটার এবং অকটেন ২ হাজার লিটার মজুত ছিল। খোলা বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।