কসবার ইতিহাসে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত
শাহপরান, কসবা-আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ রাত ০৭:৫২:২৫
খাল পুনঃখনন শেষে ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম। খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যয়িত ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কসবা উপজেলার সিনাই নদী ও জিয়াখাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় সিনাই নদীর ৬ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। একই সঙ্গে নদীর দুই তীরে ৩ হাজার ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জিয়াখালের ৪ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয়েছে ২ হাজার ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
পুরো প্রকল্পের কাজ তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাগ কর্মকর্তারা। এছাড়া কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নির্দেশনা ও নিয়মিত তদারকিতে প্রকল্পের কাজ শতভাগ সফলভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন পর খাল ও নদীর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম কসবাবাসীর প্রশংসা অর্জন করেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইউএনও ছামিউল ইসলাম সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এমনকি ছুটির দিনেও সাধারণ মানুষের সেবায় তাকে মাঠে দেখা যায়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবামূলক এই উদ্যোগ কসবা উপজেলায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, "সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রকল্পের প্রতিটি কাজ যথাযথ পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজ শেষে যে ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা অব্যয়িত ছিল, তা সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা এবং জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব এবং দেশপ্রেমের অংশ।"