শামীম আহমেদ জয়, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:৩৮:১৬
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরোপিট ফের দখলের চেষ্টা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন একটি মৎস্য ফিসারী (বরোপিট) দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জলাশয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও এক পক্ষের বিরুদ্ধে পুনরায় দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কৃষ্ণপুর গ্রামের ওই জলাশয় জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আনিছ প্রধানের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (৩০) মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের আ. গনি প্রধান, তার ছেলে রাহাত ও জিহাদসহ ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জলাশয়ে প্রবেশ করে কচুরিপানা পরিষ্কারের মাধ্যমে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে বাদীপক্ষকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণপুর মৌজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১২৯, ১৩০, ১৩৩, ১৩৫, ১৩৬, ১৩৮, ৫০২ ও ৪০ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ৬৪ শতাংশ জলাশয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিবাদীরা জলাশয়টি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তারা জলাশয়ের দখল ফিরে পান। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও দখলের চেষ্টা শুরু হয়।
তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও মামলাও করা হয়েছে। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড উভয় পক্ষের কোনো বৈধ লিজ না থাকায় জলাশয়ে সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুনরায় দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে—জলাশয় তারা দখল করবেই। বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে, এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই বরোপিটকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ৭ মার্চ দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং একই বছরের ৫ এপ্রিল হামলা-লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। পরে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল গনি প্রধানের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে এখানে মাছ চাষ করে আসছি। বর্তমানে লিজ নবায়ন বন্ধ থাকলেও এখানে আমাদের মাছ রয়েছে। কচুরিপানা পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে, তাই আমরা পরিষ্কার করছি।”
এ বিষয়ে শামসুদ্দিন খান নামে এক ব্যক্তি জানান, মাছ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে।
তবে মেঘনা-ধনাগোদা প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন খান বলেন, “জলাশয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন এবং সেখানে সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। কাউকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া শামসুদ্দিন নামে আমাদের বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।