মো: আলমগীর হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৫ মে ২০২৬ সকাল ১০:১৩:০৯
ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, নাগরিক সেবা ব্যাহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খানের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
সময়মতো অফিসে না আসা, অনুমতি ছাড়াই আগেভাগে দপ্তর ত্যাগ করা এবং নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার কারণে পৌরসভার নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পারিবারিক কারণে ৪ মে থেকে পৌর প্রশাসকের বরাবর লিখিত ছুটি নিয়েছেন তিনি। অথচ তিনি ২৯ এপ্রিল বুধবার উপস্থিত থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকেই নবীনগর পৌরসভায় অনুপস্থিত রয়েছেন। জানা যায়, অনুপস্থিত থাকলেও পৌরসভার বিভিন্ন কাগজপত্রে আগাম স্বাক্ষর করে রাখেন তিনি।
৪ মে সোমবার নবীনগর পৌরসভায় গিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতির স্বাক্ষর দিতে হয় না। পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ও সেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাঁরই। কিন্তু তিনি নিজেই নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন।
এতে করে পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হন না। এমন পরিস্থিতি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কেউ দেরিতে আসেন, আবার কেউ দিন শেষে দায়িত্ব পালন না করেই আগেভাগে দপ্তর ত্যাগ করেন। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং তারা প্রকাশ্যেই ‘গণকর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ অমান্য করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের শীর্ষে রয়েছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খান নিজেই। প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও দপ্তর ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতি ও খেয়ালখুশিমতো অফিস করার অভিযোগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সচেতন মহলের মতে, দায়িত্বশীলরা যখন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন, তখন পুরো প্রশাসনই বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হয়। নবীনগর পৌরসভার সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করেও দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থ রক্ষায় এই অনিয়মের দ্রুত তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দপ্তরের শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পৌরসভায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মাহামুদুর রহমান চ্যানেল এস'কে বলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন। সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মিত অফিস করা প্রয়োজন। আগাম ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।