টাকা দাবি ও ভোটার ফিঙ্গার ডিলিটের অভিযোগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, তদন্তের দাবি ভুক্তভোগীদের
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৫ মে ২০২৬ সকাল ১০:১৬:৪৬
গোপালগঞ্জ নির্বাচন অফিসে একাধিক অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন ও ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার দীর্ঘদিন পরও এখনো নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনক্রমে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং শনাক্তকারীর স্বাক্ষরকৃত নথি থাকা সত্ত্বেও অনেক সেবা গ্রহীতাকে অফিসে ডেকে এনে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা, ভয়ভীতি দেখানো এবং টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিলিট করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তারা ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান করেন। পরে নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসু তাদের মোবাইল ফোনে ডেকে অফিসে নিয়ে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা আটকে রাখেন এবং পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাদের স্লিপ নম্বর নিয়ে ভোটার ফিঙ্গার ডিলিট করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
যাদের ভোটার ফিঙ্গার ডিলিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন আলহাজ শেখ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৫৯৩৯৫), মাহিম শেখ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৫৯৩৯৩), আবু মুসা শেখ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৫৯৩৯৬), মো. নাইম শেখ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৫৯৩৯৪) এবং মো. আনিচ শরীফ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৩০৭৭০)।
ভুক্তভোগী আনিচ শরীফ জানান, ২০২৫ সালে তিনি হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটার হন। দুই মাস পর নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসুর কাছে গেলে তিনি স্লিপ দেখে বলেন, “এই ফিঙ্গার হবে না, বাইরের জন্ম সনদ করা।” পরে তাকে আবার নতুন করে ভোটার আবেদন করতে বলা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে গেলে তাকে জানানো হয় তার জন্ম নিবন্ধন অন্য এলাকা থেকে হওয়ায় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ভোটার হতে পারবেন না। এ সময় তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা অফিসে আটকে রাখা হয় এবং পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে তার মা তাকে ছাড়াতে অফিসে এলে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, নির্বাচন অফিসের কিছু দালাল ও অসাধু কর্মচারীদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বাইরের জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে নতুন ভোটার তৈরি করা হচ্ছে। অথচ সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেককে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসু কোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আমি কোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে বাধ্য নই। আমার যদি ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে হয়, তবে অনুমতি লাগবে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।”
এদিকে অভিযোগ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।