জাহাঙ্গীর আলম,নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৮ মে ২০২৬ দুপুর ০২:২২:৪৯
বারহাট্টায় খাল দখল করে ফিসারি,তলিয়ে গেল কৃষকের ধান
নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের আশিয়ল গ্রামের পূর্বপাড়ায় খালের মুখ বন্ধ করে মাছের ঘের (ফিসারি) নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান মড়ল নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।
এতে খালের পানি পাশের কাটাখালী নদীতে যেতে না পারায় গ্রামের সামনের নিচু বিল এলাকায় পানি জমে অন্তত ২০ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আশিয়ল গ্রামের পূর্বপাড়ার খালটি কাটাখালী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। ওই খাল দিয়ে বর্ষা ও জমির অতিরিক্ত পানি নদীতে নেমে যেত। কিন্তু সম্প্রতি খালের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষের জন্য ঘের তৈরি করায় পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিলে পানি জমে চারদিকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, পানির নিচে পড়ে অনেক জমির পাকা ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে হাতে ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে কয়েক হাজার মণ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ইলিয়াস মিয়া বলেন, খালের মুখ বন্ধ থাকায় নিচু জায়গার পানি নদীতে নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানিতে জমির ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, তাই কোমর পানিতে নেমে নিজেই ধান কাটছি। অর্ধেক ধানও ঘরে তোলা যাবে না। ১৫০০ টাকা রোজে শ্রমিক নিলেও পোষাবে না। কষ্টের ধান চোখের সামনে তলিয়ে যাবে দেখে সহ্য হয় না। বাধ্য হয়ে নিজেরা কাটা শুরু করেছি।
অপর কৃষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ধান তলিয়ে যাচ্ছে ছেলেটার স্কুল বন্ধ করে তাকে সঙ্গে নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছি। যাই কিছু ধান ঘরে তোলা যায় এই আশায়। খালের মুখ দখলমুক্ত করে দিলে এলাকার কৃষক উপক্ত হবে।
আরেক কৃষক নুরনবী বলেন, “এই খালটি যদি খনন করে পানি চলাচল সচল রাখা হতো, তাহলে শুধু আমাদের বিল নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি বিলের ধান নৌকায় সহজে গ্রামে আনা যেত।”
এ বিষয়ে আজ শুক্রবার অভিযুক্ত শাহজাহান মড়ল বলেন, “খালের কিছু অংশ আমার ফিসারির মধ্যে পড়েছে, এটা ঠিক। বাকিটা আমার নিজের জায়গার মধ্যে পড়েছে। আমার নিজের জায়গা দিয়ে তো খাল যেতে দেব না। কয়েক বছর আগে ভরাট করার সময় তখন কেউ বাধা দেয়নি।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাল দখলমুক্ত করে দ্রুত খনন এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হোক, যাতে কৃষকদের ক্ষতি কমানো যায় এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা না থাকে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, এলাকার লোকজন বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। কৃষকের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, ওখানকার কেউ বিষয়টি আমাকে জানায়নি। আপনার থেকেই প্রথম জানলাম। যেহেতু খাল দখলের মতো বিষয় রয়েছে, সেক্ষেত্রে প্রশাসনের সহায়তা লাগবে। এ বিষয়ে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।
বিষয়টি অবহিত করলে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জিনিয়া জামান বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলব যেন বিষয়টি দেখে আমাকে জানায়।