পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:৪২:২৭
কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রমে পানি ও খাদ্য সংকট হুমকির মুখে দেশীয় প্রজাতির হাজার হাজার মা মাছ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা টাঙ্গন নদীর ‘কদম তলী মৎস্য অভয়াশ্রমে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অভয়াশ্রমে এখন আর পর্যাপ্ত পানি নেই। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটও। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মা মাছ। মৎস বিভাগ বলছেন, সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন তারা।
দেশীয় প্রজাতির মাছের নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য ২০০১ সালে পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বনুয়াপাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর বাঁকে কদমতলী মৎস অভয়াশ্রম গড়ে তোলেন মৎস বিভাগ। সেখানে রুই, কাতলা, শোল, বোয়াল, আইড়, চিতল, কই, টেংড়া, পুপি সহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মা আশ্রয় নেয় এবং প্রজনন মৌসুমে নদীতে গিয়ে ডিম ছেড়ে আবার ফিরে আসে। মৎস বিভাগ এবং মৎস জীবীদের নিবিড় পরিচর্যায় সেখানে এখন বড় বড় মা মাছ বিচরণ করছে। তবে দীর্ঘ দিন ধরে খনন না হওয়ায় পলি জমে অভয়াশ্রমটিতে পানি কমে গেছে। দেখা দিয়েছে মাছের খাবার সংকট।
এতে হুমকির মুখে পড়েছে অভয়াশ্রমের হাজার হাজার মা মাছ।
কদমতলী মৎস অভয়াশ্রমের সভাপতি ফজলুল করিম জানান, এখানে ৩০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের কয়েক হাজার মা বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলা মাছ রয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় মাছগুলি ভেসে উঠছে। স্বাভাবিক ভাবে চলা ফেরা করতে পারছে না।
অভয়াশ্রমের সহ সভাপতি এন্তাজুল হক জানান, পানির পাশাপাশি প্রকৃতিক খাদ্যও কমে গেছে। এজন্য মা মাছ গুলির মাথার আকার বড় হয়ে গেছে।
পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি (পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন) জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, কদমতলী মৎস অভয়াশ্রম রক্ষা করা না গেলে এ আঞ্চলের খাল বিল ও নদী নালায় দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যাবে না। পরিবেশেরও বির্পযয় ঘটার আশংকা রয়েছে।
পানি এবং খাদ্য সংকটের কথা স্বীকার করে সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আয়শা আকতার জানান, দেশী প্রজাতির মা মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল কদমতলী মৎস অভয়াশ্রম। দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলি জমে সেখানে পানি আশংকা জনক ভাবে কমে গেছে। সেই সাথে খাবার অভার দেখা দিয়েছে। প্রথমিকভাবে কিছু খাবার প্রদান করা হয়েছে।
সম্প্রতি মৎস অভয়াশ্রমটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মৎস অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ( অ..দা.) শাহনেওয়াজ সিরাজী। তিনি বলেন, মা মাছের প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করবেন।
দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ অভয়াশ্রমটি বাঁচিয়ে রাখতে উদ্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।