মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬ রাত ১০:০১:৫১
ঈদের আনন্দ কারাগারের চার দেয়াল ভেদ করে, যেভাবে কাটে বন্দিদের ঈদ
ঈদ মানেই আনন্দ আর খুশি। সেই আনন্দ থেকে বাদ যাননি চার দেয়ালের ভেতরে থাকা কারাবন্দিরাও। ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বন্দিদের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরাও অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তায় ছিল মুড়ি ও পায়েস।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কারাগারে আসেন বন্দিদের স্বজনরাও। প্রায় শতাধিক স্বজনকে ফুল, চকলেট ও মিষ্টান্ন দিয়ে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, গরুর রেজালা। এছাড়া যারা গরুর মাংস খান না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য রাখা হয় খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।
ঈদের দিনে কারাগারে বন্দি ও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের খোঁজখবর নিতে পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। তিনি বন্দিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় কারাগারের পরিবেশ, বন্দিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পরিদর্শন করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, “ঈদ আনন্দের দিন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো বন্দিরাও যেন মানবিক পরিবেশে ঈদের আনন্দ অনুভব করতে পারে, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।” তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, খাদ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে বর্তমানে ৫৫৯ জন বন্দি রয়েছেন। এ সময় জেল সুপার মো. তারিকুল ইসলাম ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান, কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজ, উন্নতমানের খাবারসহ সব ধরনের মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় বন্দিদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ১০০টি লুঙ্গি ও শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কারাগার শুধুমাত্র শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বন্দিরা যেন নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
ঈদের দিনে কারাগারের ভেতরে এমন আয়োজন বন্দিদের মাঝে কিছুটা হলেও আনন্দ এনে দিয়েছে, যা চার দেয়ালের সীমা পেরিয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।