স্বৈরাচারী সরকারের সিদ্ধান্তে বন্ধ হয়ে যায় খাল কাটার কাজ: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:০৩:১৩
স্বৈরাচারী সরকারের সিদ্ধান্তে বন্ধ হয়ে যায় খাল কাটার কাজ: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ারর রহমান এই খাল কাটা কর্মসূচী মধ্য দিয়ে এই দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন। তার এই খাল কাটা কর্মসূচিটা যুগোপযোগী ছিল, জনবান্ধব ছিল। তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার এসে খাল কাটা সেটাকে বন্ধ করে দিয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ারর রহমান দেশের কৃষি বিপ্লবের লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রম আবারও জোরদার করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে তিনি জানান।
১৬ মার্চ সোমবার দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী সময় এ তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাটাগাং খাল (৩.৮ কি.মি.) খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. বদরুল আলম প্রমুখ প্রমুখ।
খাল খনন উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শ্রমিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী এবং এলাকার সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল-নদী পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং স্থানীয় কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে, যা এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলা প্রশাসন এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে কাটাগাং খালের নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা হবে এবং আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এতে স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, একই দিনে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের এই বৃহৎ কর্মসূচি একযোগে বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।