শামীম আহমেদ জয়, মতলব উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬ রাত ০৭:৪৭:১৭
লেংটার মেলা ঘিরে মাদক-অশ্লীলতার আশঙ্কা, উদ্বেগে স্থানীয়রা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী এলাকার বদরপুর গ্রামে শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ১০৭তম লেংটার মেলা। বাংলা ১৭ চৈত্র থেকে শুরু হয়ে সাত দিনব্যাপী এ মেলাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে মেলা শুরুর আগেই মাদক কেনাবেচা, সেবন, অশ্লীল নৃত্যসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে মেলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দোকানপাট সংস্কার, অস্থায়ী স্টল নির্মাণ ও ভক্তদের জন্য আস্তানা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে মাজার এলাকায় আশেকান-ভক্তদের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীর ও সাধক হযরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.) ওরফে লেংটা বাবা বাংলা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে ইন্তেকাল করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর তার মাজারকে কেন্দ্র করে ১৭ চৈত্র ওরশ ও মেলার আয়োজন করা হয়। ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত এ আয়োজনে প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।
তবে প্রতি বছরের মতো এবারও মেলাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও মেলায় শতাধিক গাঁজার দোকান, আফিমসহ বিভিন্ন মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অশ্লীল নৃত্যের আসর বসানোর পায়তারা করছে একটি চক্র।
মাজারের পশ্চিম পাশের পুকুরপাড়, বাগান এলাকা ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন স্থানে প্রতিবছরই মাদক সেবন ও বিক্রির হাট বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেশাগ্রস্তদের সমাগম ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আলী আজগর নামে এক আশেকান বলেন, “আমি প্রতি বছরই মেলা শুরুর প্রায় এক মাস আগে চলে আসি। এখানে এসে নিজের মতো করে সময় কাটাই।”
অন্যদিকে, উপজেলার তালতলী গ্রামের গাজী এমদাদুল হক মানিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লেংটার মেলার নামে যেভাবে মাদক ও অশ্লীল নাচগানের আসর বসে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, কিশোর-তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, এবার যেন কঠোরভাবে এসব বন্ধ করা হয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি মাজার কমিটি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া বলেন, “মাজারের বাউন্ডারির ভেতরে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ হয় না। বাইরে কোথাও এমন কিছু হলে নির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। আমরাও চাই, ওরশকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটুক।” তিনি জানান, মাজার এলাকায় প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, “প্রতি বছরই এখানে বড় পরিসরে ওরশ ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, জুয়া, ছিনতাই, অশ্লীলতা ও মাদক বেচাকেনা রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”