জাহাঙ্গীর আলম,নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ দুপুর ০২:৩৭:৩৬
কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা, দুইজন কারাগারে
নেত্রকোনায় শত শত গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এনজিও ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’র বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর দুইজনকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এইদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাওরের অসহায় গৃহিণীরা এসে এনজিও অফিসটি ঘেরাও করে।
অন্যদিকে বুধবার সন্ধ্যায় নিতীশ চন্দ্র রায় সদর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, অধিক মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এবং দৈনিক সঞ্চয় হিসেবে আরও ১০ হাজার ৩০০ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শহরের চকপাড়া এলাকায় অবস্থিত পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার অফিসের মাঠকর্মী তামান্না শেখ ও ম্যানেজার মোঃ আল-আমিন খানের মাধ্যমে এসব টাকা সংগ্রহ করা হয়। একইভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার আরও বহু গ্রাহকের কাছ থেকেও ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট ও দৈনিক সঞ্চয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা সংগ্রহ করে। সম্প্রতি গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করতে গেলে নানা টালবাহানা শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার হাওড় উপজেলা মদনের গ্রাহকরা চকপাড়াস্থ অফিসে গিয়ে দরজায় তালা ঝুলতে দেখেন। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার ভুক্তভোগীরা অফিস ঘেরাও করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুরাদ হোসেন, তামান্না আক্তার ও মোঃ আল-আমিন শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তামান্না আক্তার ও মোঃ আল-আমিন শেখকে আদালতে পাঠানো হয়। আটক মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাওর উপজেলা মদনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সংস্থাটির অফিস ঘেরাও করেন। তারা দাবি করেন, শত শত গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে সংস্থার কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন। টাকা ফেরতের দাবিতে তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আমানতের অর্থ উদ্ধার করার দাবি জানান।
নেত্রকোনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আল-মামুন সরকার জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবারেই তিনজনকে আটক করে থানা হেফাজতে আনা হয়, পরবর্তীতে আটজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা হলে, আটকৃত দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়। আর আটককৃত মুরাদের নামে ভোক্তভোগীদের কোনো অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।