নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০:৫৫:৩৭
ভালোবাসা ও সঠিক শিক্ষায় গড়ে উঠুক নতুন প্রজন্ম: সুলতানা জেসমিন এমপি
বাচ্চাদের ভালোবাসায় বড় করলে তারা ভালোবাসাই শিখবে, আর রুক্ষ পরিবেশ দিলে তারা রুক্ষ হয়ে উঠবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্টায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত "মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অংশীজনদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা" অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জুঁই বলেন, আমাদের বাচ্চাদের যে শিক্ষা দিয়ে বড় করব, পরবর্তীতে তারা সেই ধরনের আচরণ করবে। আমরা যদি বাচ্চাদের রুক্ষভাবে বড় করি তাহলে তারা রুক্ষ হবে, আর যদি ভালোবাসা দিয়ে বড় করি তবে ভালোবাসায়ই বড় হবে। শিক্ষকরা হচ্ছেন সমাজের আলো, আপনারা চাইলে যে কাউকে পরিবর্তন করতে পারেন যার প্রমাণ আমি নিজে। আপনারা সঠিক কাজটি করুন, স্বাধীনতার অপব্যবহার করবেন না। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আপনারা যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার থেকে বেরিয়ে আসুন।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার সুমন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম, থানা তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।
নারী সংসদ সদস্য আরো বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সৃষ্ট সামাজিক অবক্ষয় মোকাবিলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। মাদক ও ইভটিজিংসহ নানা অপরাধে জড়িত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের অভিভাবকদের সরাসরি জানানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কোনো বাবা-মা চান না তাঁদের সন্তান বিপথগামী হোক; সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় পরিবার ব্যবস্থা নিতে পারে না। তথ্য জানার পরও পরিবার ফেরাতে না পারলে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা করার কথা বলেন।
এসময় তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় শিক্ষার্থীদের মেধা ও চরিত্র গঠনে কয়েকটি বাস্তবমুখী পরামর্শ দেন যেমন, সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে যুক্ত করা। বিতর্ক প্রতিযোগিতা যুক্তিবোধ জাগ্রত করতে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত বিতর্কের আয়োজন করা। বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট পরীক্ষণ ও বিষয়ের মাধ্যমে ল্যাবমুখী করা।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সরকারি সহযোগিতা নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এমপি বলেন, আমিও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসেছি, তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নানা অসুবিধার কথা আমার অজানা নয়। শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর রাখতে সরকার থেকে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, আমি দেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু কথা দিতে হবে সরকারি সেই সহযোগিতার সঠিক ব্যবহার করতে হবে।
সভায় উপস্থিত অংশীজনরা নাজিরপুরের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।