কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৪ মে ২০২৬ সকাল ১১:৩৩:৪১
প্রতিবন্ধী বাবা-ছেলের ভাগ্যে জোটেনি ভাতার কার্ড
একই পরিবারে বাবা ও ছেলে—দুজনই প্রতিবন্ধী। অথচ দীর্ঘদিন ধরেও মেলেনি সরকারি সহায়তার হাত। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের পাড়িয়াপাড়া পাঁচলগোটা গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানিক মিয়া (৪০) ও তার একমাত্র ছেলে নাদিম হোসেন (১১) এখনো পাননি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মানিক মিয়া। জন্ম থেকেই শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী তার ছেলে নাদিম। অভাব-অনটনের কারণে সন্তানের নিয়মিত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তিনি। পরিবারে নেই কোনো স্থায়ী উপার্জনের উৎস। ফলে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বহুবার ইউনিয়ন পরিষদ ও সমাজসেবা কার্যালয়ে ঘুরেছেন তিনি। কয়েক দফা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। এমনকি সাবেক এক মহিলা সদস্যের স্বামীর কাছে টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা দুইজনই প্রতিবন্ধী। একজনেরও যদি ভাতা পাইতাম, তাহলে সংসারটা কিছুটা চলতো। এখন খুব কষ্টে দিন পার করি।” পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আর ছোট মেয়ে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। স্ত্রী নাদিরা বেগম গৃহিণী।
এ বিষয়ে পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সুরুজ বলেন, “দীর্ঘদিন ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের বরাদ্দ ছিল না। সম্প্রতি বরাদ্দ এসেছে। সংশ্লিষ্ট পরিবার যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস জানান, ভুক্তভোগী পরিবার বা তাদের প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত এই পরিবারকে দ্রুত প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হোক। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।