কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৬ জুলাই ২০২৬ রাত ১০:০২:১০
"রাইতে ঘুম হয় না, আতঙ্কে থাকি, কহন যানি ঘরবাড়ি গাঙ্গে লইয়া যায়"
"প্রতি বছর বর্ষা আইলেই আমাগো আতঙ্ক শুরু হয়। অনেকে সব হারাইয়া নিঃস্ব। এহন আত্মিয়ের বাড়ি থাহে। আমরা কোনো মতে ঘরডা লইয়া আছি। আমাগো রাইতে ঘুম হয় না, আতঙ্কে থাহি কহন যানি ঘরবাড়ি গাঙ্গে লইয়া যায়, হেই ভয়ে আছি।"
কথাগুলো বলছিলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর গ্রামের বাসিন্দা রহিম আলী। শুধু তিনি নন, আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে এখানকার শত শত পরিবার এখন একই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা ঘিরে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর, সাহেবরামপুর, কয়ারিয়া, মোল্লারহাটসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে স্বজনদের বাড়ি কিংবা ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর এলাকায়। এছাড়া মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষের চর এলাকাতেও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে নতুন নতুন এলাকা বিলীন হওয়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খুনের চর গ্রামের বাসিন্দা করিম মোল্লা বলেন, প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো নদীর স্রোতে কার্যকারিতা হারায়। স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।
স্থানীয় গৃহিণী আমেনা বেগম বলেন, "নদী একটু একটু করে ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে আসছে। সন্তানদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। সরকার যেন দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়, এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।"
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফীন বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।