নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬ সকাল ১০:৪৬:১০
স্পেনের কাছে হেরে ফ্রান্সের বিদায়
ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে জমজমাট লড়াই হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছিল স্পেন-ফ্রান্স মহারণ। তবে লড়াইয়ের দিনে দুর্ভেদ্য ডিফেন্স, নিখুত পাসিং,ক্ষিপ্র অ্যাটাক-সব মিলিয়ে শৈল্পিক ফুটবলে ফ্রান্স দাঁড়াতেই দেয়নি স্পেন।
ডালাসে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ আসরের প্রথম সেমিফাইনালে কোনো পাত্তাই পায়নি ফ্রান্স। তাদেরকে অনায়াসে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে সফল পেনাল্টি থেকে মিকেল ওইয়ারজাবালের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যাওয়ার পর তাদের হয়ে ব্যবধান বাড়ান পেদ্রো পোরো।অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল লা রোহারা।
ম্যাচের শুরু থেকে একে অপরের ওপর চাপ প্রয়োগ করে খেলার চেষ্টা করে। ১০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি–কিক পেয়েছে স্পেন। তবে ফ্রি–কিকটি কাজে লাগাতে পারেনি।
এরপর ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের ভেতর লামিনে ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। গোল হজমের পরও ছন্দে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। বরং ৩১তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তাদের নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা। তার জায়গায় নামেন ম্যাকসেন্স লাক্রোয়া।
প্রথমার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ৩৯তম মিনিটে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর দারুণ সমন্বিত আক্রমণের পর ফাবিয়ান রুইজ বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। অন্যদিকে ফ্রান্সের সেরা সুযোগ আসে ৪৩তম মিনিটে। একা গোলমুখে ছুটে যাওয়া এমবাপ্পের সামনে দ্রুত বেরিয়ে এসে দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে স্পেন। ফ্রান্স আক্রমণে উঠলেও সেগুলো সহজেই সামলে দেয় স্প্যানিশ রক্ষণভাগ।
৫৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লা রোজা। দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে মাইক মেইনিয়াঁকে পরাস্ত করেন ডান-ব্যাক পেদ্রো পোরো। ৬২তম মিনিটে লামিনে ইয়ামাল আরও একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দিদিয়ের দেশম একের পর এক পরিবর্তন আনেন। দেজিরে দুয়ে, থিও হার্নান্দেজ ও রায়ান শেরকিকে মাঠে নামিয়েও আক্রমণে ধার ফেরাতে পারেননি। এমবাপ্পেও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। একাধিকবার অফসাইডে ধরা পড়েন তিনি, ৮৭তম মিনিটে হতাশা থেকে উনাই সিমনের ওপর ফাউল করে হলুদ কার্ডও দেখেন।
শেষদিকে ওসমান দেম্বেলের শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। যোগ করা সময়ে এমবাপ্পের আরেকটি শটও বার অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান কমাতে পারেনি ফ্রান্স।
পুরো ম্যাচে আক্রমণ, বলের দখল এবং সুযোগ সৃষ্টিতে এগিয়ে থাকা স্পেন শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে লা রোজা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে।