নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০১:৫৪:১০
রাজধানীকে বাসযোগ্য করে গড়তে সম্মিলিতভাবে সবাইকে কাজ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
রাজধানীকে বাসযোগ্য রাখতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্ষা এলেই ঢাকার সমন্বয় সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।
১৫ জুলাই বুধবার রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা জমতে জমতেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও সীমিত সম্পদের দেশ, যেখানে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা। সময়ের সঙ্গে রাজধানীর জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বর্জ্যের পরিমাণও। তবে নগরজীবনের প্রতি নাগরিকদের দায়িত্ববোধ ও সচেতনতার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশে গেলে মানুষ একটি চকলেটের মোড়ক ফেলতেও ডাস্টবিন খোঁজেন। এটি মূলত মানসিকতার বিষয়। সেই সচেতনতা দেশের মানুষকেও গড়ে তুলতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তুলতে বিএনপি-জামায়াত বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নাগরিক দায়িত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে। গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো এলাকায় বসবাসকারী সচেতন নাগরিকদের মাধ্যমেই এ সচেতনতার বিস্তার ঘটানো সম্ভব। পাশাপাশি স্কুল পর্যায় থেকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে।
নদী দখলের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নিয়মিতভাবেই তুরাগ নদী দখল হয়েছে। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, "এই নদীগুলোকে বাঁচাতে না পারলে ঢাকাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।"
এ সময় রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর ইতিবাচক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তার ভাষ্য, এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পর সড়কে শৃঙ্খলা কিছুটা ফিরে এসেছে, কারণ আইন ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।