নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬ রাত ১১:৩০:৩৬
ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজে ধরাশায়ী হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটের সিরিজে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে কোনো পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেয়ার পর শেষ ম্যাচেও জয় পেয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল।
আজ (১৯ জুলাই) বুলাওয়েতে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৪৩ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাব দিতে নেমে ২ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় পুরোটা সময়ই জয়টা হাতের মুঠোয় ছিল বাংলাদেশের। তবে মিডল অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং সহজ জয়কে রূপ দেয় রুদ্ধশ্বাস জয়ে।
জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল কেবল ৯ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ইয়াসির আলী রাব্বির উইকেট তুলে নেন রিচার্ড এনগারাভা।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫ রান। প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন সেট ব্যাটার তানজিদ তামিম। পরের দুই বলে ইভান্সের শিকার হয়ে মোসাদ্দেক হোসেন এবং সাইফউদ্দিন সাজঘরে ফিরলে লড়াই জমে যায়।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। হ্যাটট্রিক বলটায় দারুণ এক ইয়োর্কারে শেখ মেহেদীকে পরাস্ত করেন ইভান্স, বল লাগে ইভান্সের পায়ে। এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বেশ। তবে বলটা ডেলিভারির আগেই আম্পায়ার নো বল দেয়ায় বেঁচে যান মেহেদী। পরের বলে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী।
তবে ১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। আর পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান।
তবে পরের উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে তোলেন ৫৫ রান। হৃদয়ের সঙ্গে তানজিদের জুটিটা ৬৩ রানের। ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় টাইগাররা। ইমন ও হৃদয় দুজনই ফিরেছেন ২৪ রান করে। আর আউট হওয়ার আগে ১০ রান করেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ ওভারে ফেরেন মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন।
ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণের পর ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দলীয় ৬ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পায় স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রানে থামেন বেনেট।
এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মায়ার্স। তার ইনিংস থামে ৭২ রানে। ৫২ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।
এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কেউই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে যেতে পারেননি। দলনেতা সিকান্দার রাজা ৩, রায়ার্ন বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। আর মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন।