নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৯:৩৯:৫০
জ্বালানি সংকটে জনগণের দুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
চলমান জ্বালানি সংকটে দেশের মানুষের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে সরকারের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগবে জানিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করার পর দেখেছি, শুধু ভঙ্গুর অর্থনীতি নয়—ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা, ভঙ্গুর যোগাযোগব্যবস্থাসহ বহুবিধ সমস্যা আমরা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। এই মুহূর্তে বলতে হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা যে জ্বালানি সংকট উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি, সেটি। দেশের বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে কষ্ট ভোগ করছেন। আমরা বিষয়টি অস্বীকার করছি না।’
সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সংকট মোকাবিলায় একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে ভবিষ্যতে বিশ্বে এ ধরনের কোনো সংকট তৈরি হলে যাতে বাংলাদেশের মানুষকে আবার জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, সেভাবেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে, তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে যেসব সাধারণ মানুষ এবং শিল্প-কলকারখানার মালিক কষ্ট ভোগ করছেন, তাদের সবার কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার যে সমস্যাগুলো রেখে গেছে, সেগুলোর কারণে আজ দেশ ও দেশের মানুষ কষ্ট ভোগ করছে—আমরা শুধু এটিকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরতে চাই না। বরং অজুহাত না দেখিয়ে আমরা মানুষের সামনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাই। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে দেশের মানুষকে আর এ ধরনের সংকটের মধ্যে পড়তে না হয়।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে একই ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রধামনন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কষ্টের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় দলটির রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখনই বিএনপি দেশের হাল ধরেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি, শহিদ জিয়া ও প্রয়াত খালেদা জিয়ার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখনই বিএনপি তার হাল ধরেছে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি লুকিয়ে বা গুপ্তভাবে কিছু করেনি, জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপি সর্বদা রাজপথে ছিল। দেশে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, ততবারই বিএনপি সরকার গঠন করেছে।