মো. সুমন মিয়া, বন্দর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৮:১০:১৭
উত্তরায় পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
রাজধানীর উত্তরায় পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ (ডিবি) ও সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যৌথ দল।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বন্দর থানার মদনপুরের কলাবাড়ী এলাকার খাদিজা ভিলার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে গুলি ভর্তি দুটি পিস্তলসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার খাসেরহাটের কানুরগাঁও গ্রামের লাল মিয়া সিকদারের ছেলে ইলিয়াস সিকদার (৩৭) এবং কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার লস্তিমানিকা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে জাফর (৩৬)।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলি ভর্তি দুটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন, র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, তিনটি ভেস্ট, ক্যাপ, তিনটি ওয়াকিটকি, চার জোড়া হাতকড়া এবং গাড়ির দুটি নম্বর প্লেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে বন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানাধীন ডিএল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিমসহ চারজন ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। তারা বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।
এ সময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্র ও চাপাতির ভয় দেখিয়ে এবং তাদের ওপর হামলা করে সঙ্গে থাকা ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নূরে আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি নতুন মহল্লা এলাকা থেকে ইলিয়াস সিকদার ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার মদনপুরের কলাবাড়ী এলাকার খাদিজা ভিলায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামালউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।