নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৮:৫৮:১২
হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনতে চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ভারত ত্বরান্বিত করবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় তো রয়েছেই, তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। আসামিদের ফেরত আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, তা যেন আরও দ্রুত সম্পন্ন হয়- ভারত সরকার সেই দিকে নজর দেবে বলেই আমরা আশা করি।’
দুই দেশেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে ও ভারত সরকারেরও একই ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন। প্রত্যর্পণ চুক্তির কাঠামোর আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ করা অবশ্যই সম্ভব এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আপনাদের সরাসরি উত্তর দিতে গেলে, ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে ও সেই প্রক্রিয়ায় আইনি বিষয় জড়িত, আর এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া। সুতরাং সেই দিক থেকে প্রক্রিয়াটি চলমান।’ বিষয়টি আদালত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকায় চলমান বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনেরর অংশ হিসেবে ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স : ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক এক আলোচনায় দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।
দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন হাইকমিশনার। দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার প্রতিটি সমস্যারই সমাধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো গোপন করে রাখার কোনো মানে নেই, আর বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলারও কোনো মানে নেই।’
বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, যোগাযোগ, পরিবহণসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে উপযুক্ত ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের আলোচনা করা প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে সম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে, তবে তা থেমে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে যথাযথ ফোরামে সংলাপ হতে হবে। আর সেই সংলাপ হতে হবে ধারাবাহিক।’
ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, প্রক্রিয়ায় কোনো বিরতি নেই। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্বাস করুন, এর সমাধান হতে হবে এবং সমাধান হবেই।’