নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০২:৫৬:১৮
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতি পেলেন মোঃ বেলাল হোসেন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে দক্ষ নেতৃত্ব এবং টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে প্রকৌশল মহলে এ পদোন্নতিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৯ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত বেতনক্রমে প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতি দেয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-২) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি না হওয়ায় এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা ছিল। সংশ্লিষ্ট অনেকেই তার জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানিয়েছিলেন।
পদোন্নতির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মোঃ বেলাল হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, এলজিইডির মূল লক্ষ্য টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করা। তিনি জানান, শুধু গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ নয়, বর্তমানে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাল পুনঃখনন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণেও এলজিইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ৪ লাখ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নেটওয়ার্ক রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি ১৩২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ৯৬টি গ্রামীণ উন্নয়ন, ৩২টি নগর উন্নয়ন এবং ৪টি ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। এ পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর আর্থিক অগ্রগতি ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।
প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এলজিইডির সদর দপ্তর, দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪৬টি উপজেলায় আধুনিক নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২৩০টি উপজেলায় পরীক্ষাগার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সীমিত রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূমি অধিগ্রহণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এলজিইডি এখন ডিজিটাল মনিটরিং, উন্নত প্রকল্প পরিকল্পনা, শক্তিশালী চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা মোঃ বেলাল হোসেন ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি গাজীপুরের ডুয়েটে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা জীবনে তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্প, নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল সেতু নির্মাণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করেছেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে প্রশাসন, নকশা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, এ দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবেন। এ সময় তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ উন্নয়ন ব্যবস্থার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থানের কারণে মোঃ বেলাল হোসেনের এ পদোন্নতি এলজিইডির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বে দেশের গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।