'উত্তরাধিকার ও বৈশ্বিক সংকটে মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলেও সঠিক কৌশলে মোকাবিলা করা হবে'
শাফি উদ্দিন আহমদ/শাহরিয়র ইকবাল সুমন, ব্যাংকক থেকে
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫:৪৬
ছবি: সনজীব চক্রবর্তী
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা দেশের মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় জোরদার, সঠিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অর্থায়ন নিশ্চিত করে বিদ্যমান সংকট দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার তৃতীয় দিনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কিছু সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নেতিবাচক প্রভাব এর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এই সংকটের প্রভাব সামাল দিতে সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বা অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে দারিদ্র্যসীমা নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা বলা হলেও সরকারের অতীতের সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। সঠিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের আবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনা সম্ভব।
অতীতের ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ইতিপূর্বে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা, যুদ্ধাবস্থা এবং জ্বালানি সংকটের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ রফতানি ও বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রেখেছিল। এছাড়া আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারী শক্তির অংশগ্রহণের মাধ্যমে অতীতে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। সেই সফল মডেলগুলো কাজে লাগিয়ে বর্তমান সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সাথে আলোচনার অগ্রগতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, বৈশ্বিক এই ধাক্কা বা ‘এক্সটার্নাল শক’ মোকাবিলায় দেশের নিজস্ব কৌশল রয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও বর্তমান বাস্তবতাকে স্বীকার করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। দরকষাকষির মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।