নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৭:৫২
মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগরব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য : মাহদী আমিন
অনাকাঙ্ক্ষিত নগরায়ণের সংকট ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বড় শহর নয়, বরং মানুষের কল্যাণকেন্দ্রিক মানবিক এবং পরিবেশবান্ধব নগরব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল আরবান ফোরাম-২০২৬’-এর ‘ফ্রম পলিসি টু অ্যাকশন’ শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউএনডিপি ও যুক্তরাজ্য (ব্রিটিশ) সরকারের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “নগরের টেকসই উন্নয়নকে কতগুলো বড় বড় অট্টালিকা বা চওড়া রাস্তা তৈরি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং নগরায়নের ফলে কতজন মানুষের জীবনের মান সত্যি সত্যি উন্নত হলো এবং সেই পরিবর্তন কতটা অর্থবহ ও স্থায়ী হলো—সেটিই হওয়া উচিত আমাদের সাফল্যের আসল মাপকাঠি। নাগরিক সমস্যা নিরসনে সরকার ‘৩৬০ ডিগ্রি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণ করতে চায়।”
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নগরাঞ্চলের ভূমিকা ও বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে মাহদী আমিন আরও বলেন, জাতীয় জিডিপির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসে নগর এলাকা থেকে, যেখানে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু দ্রুতগতির অনাকাঙ্ক্ষিত নগরায়ন আজ আবাসন, গণপরিবহণ, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য ও জলবায়ু অভিবাসন।
জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা বর্তমান সরকার এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর কাঠামো গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য নয়; বরং প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী শিক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আধুনিক গণপরিবহণ ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। এসব সেবা কোনো বিলাসিতা নয়, প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার।
নগর নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি খাত, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মাঝে কার্যকর সমন্বয়ের তাগিদ দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, নগরের সমস্যা কোনো প্রশাসনিক সীমানায় আবদ্ধ থাকে না। তাই সিদ্ধান্ত ওপর থেকে চাপিয়ে না দিয়ে তৃণমূলের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন ঘটাতে হবে।
জলবায়ু সহনশীলতার অংশ হিসেবে নদী-নালা, খাল-বিল ও সবুজ চত্বর রক্ষা করে ‘ন্যাচার-বেসড সল্যুশন’ বা প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ও তাপদাহ দূর করার আহ্বান জানান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) যুক্ত করার লক্ষ্য কেবল মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে শহরকে প্রকৃত অর্থেই ‘মানবিক’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
দীর্ঘ ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অচলায়তন রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অত্যন্ত সুদৃঢ়। বাস্তবমুখী ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে সংকট দূর করতে সরকার সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজ যে সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা হবে, সেটিই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের কেমন বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নে।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, নগর পরিকল্পনাবিদ ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।