নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৭:৩৮
প্যানেল আইনজীবীদের ফি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ: আইনমন্ত্রী
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বাড়ানোর পর আরও যৌক্তিকভাবে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, তৃণমূলের দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে লিগ্যাল এইড সেবাকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করতে সরকার কাজ করছে।
রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী (আইন ও বিচার বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নে সরকারি খরচে আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে প্রচারণার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্যানেল আইনজীবীদের কম ফি এবং এনজিওগুলোর সঙ্গে ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশনের সুনির্দিষ্ট বাধাগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী জানান, সরকার নির্ধারিত ফি কম হওয়ায় অনেক সময় দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীরা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী হন না। এ ছাড়া মামলা দায়ের, কোর্ট ফি প্রদান কিংবা দলিলের জাবেদা নকল সংগ্রহের মতো প্রাথমিক আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য সরকারিভাবে কোনো অগ্রিম বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় আইনজীবীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। আইনজীবীদের এই বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং এই ফি আরও যৌক্তিকভাবে বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, তৃণমূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে এবং সচেতনতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৩০০টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মোবাইল অ্যাপ ও আধুনিক অনলাইন পোর্টাল চালু এবং ‘১৬৬৯৯’ টোল-ফ্রি লিগ্যাল এইড হেল্পলাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার আয়োজন, লিফলেট বিতরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশব্যাপী জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যপদ্ধতি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহির কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় এই সমন্বয় করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে একটি সমন্বিত ডেটা-শেয়ারিং নীতিমালার অভাব, পৃথক কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং বিচারপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখানে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি নিরাপদ, সমন্বিত ও কার্যকর ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি এনজিও ও অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।