নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬ রাত ০৬:০৮:২৭
পল্লবী ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভারের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পল্লবী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ড্রাইভার শাখাওয়াত হোসেন মল্লিকের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর তিনি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন। পরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা, দালালচক্র ও তদবিরকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন।
একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রায় কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনলাইনে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হতো এবং প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেউ বিরোধিতা করলে তাকে বদলি বা প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানো হতো।
শাখাওয়াত হোসেন মল্লিকের বিরুদ্ধে রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট, নিজ এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি এবং দামি গাড়ির মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
জানা গেছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীতেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি।
এদিকে, অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হুমায়ুন কবিরসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে নিয়োগ ও বদলির আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে সাবেক মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করতেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেনের নাম ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে বরিশাল এলাকায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখাওয়াত হোসেন মল্লিকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।