নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:১১:০১
আমরাই যেচে সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম: টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সংসদে স্পিকার
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ‘আমরাই ডেকে ডেকে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সদস্য আব্দুল মালিকের এক সম্পূরক প্রশ্নের পর স্পিকার এ মন্তব্য করেন।
এর আগে সংসদ সদস্য আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন।
উল্লেখ্য, টিপাইমুখ বাঁধ ভারতের মণিপুর রাজ্যে বরাক নদীর ওপর প্রস্তাবিত একটি বহুমুখী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যা বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত। ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এটি নির্মিত হচ্ছে। তবে, এর ফলে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমে যাওয়া এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে আমার কিঞ্চিত অভিজ্ঞতা আছে। এই যে টিপাইমুখ বাধ, এটি বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে চালু করেছিল ভারত। আমরাই ডেকে ডেকে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।’
এদিন পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেটের বন্যা ও খরার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন আব্দুল মালিক। তিনি বলেন, কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও বরাক নদীর উজানের প্রবাহে সিলেটের রাস্তাঘাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। আবার খরার মৌসুমে পানির অভাবে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে তিনি জানতে চান, টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে সরকারের কী পরিকল্পনা আছে এবং পাহাড়ি ঢলের চাপ ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জবাবে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘টিপাইমুখ যে ব্যাপারটা মাননীয় সংসদ সদস্য বলছেন সেটা আমি আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলব, যাতে করে ভবিষ্যতে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই বাধ ভাঙ্গনের ফলে, যেভাবে উনি বলছেন যে একবার পানিতে তলিয়ে যায় আরেকবার পানি পাওয়া যায় না...আমরা (ব্যবস্থা) নেব যাতে করে ভবিষ্যতে এই সমস্যাটা কমে যায়।’
মন্ত্রীর উত্তরের পরই স্পিকার নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে টিপাইমুখ বাধ ইস্যুতে ওই মন্তব্য করেন।