কামাল হোসেন নয়ন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬ রাত ০৮:২৭:৫৫
চৌদ্দগ্রামে ৯৬ বছরের বৃদ্ধা মাকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী ছামেনা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। তার স্বামী আবদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ছামেনা খাতুনের দুর্দশার শুরু। ২০১১ সালে ছেলে ফয়েজ আহমেদ তাকে নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে থাকা মেয়ে রোকেয়া বেগমের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি মেয়ের বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। রোকেয়া বেগম নিজেও স্বামীহারা। অভাবের সংসার হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে ফয়েজ আহমেদ নতুন একটি বিল্ডিং নির্মাণ করেন। গ্রামবাসীর অনুরোধে তিনি মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু গত ৪ মে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তার স্ত্রী রুমা বেগম গভীর রাতে ছামেনা খাতুনকে মালামালসহ বাড়ি থেকে বের করে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ছামেনা খাতুনের মেয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, “আমার ভাই ও ভাবি দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি অবহেলা করে আসছেন। আমাদের অভাবের সংসার হলেও আমরা মায়ের দেখভাল করছি। ভাই দেশে এসে মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন, কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পরদিনই ভাবি তাকে ঘর থেকে বের করে দেন।”
ছামেনা খাতুন বলেন, “অনেক বছর আগে ছেলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না। আমার মেয়েরাই আমাকে দেখাশোনা করে।”
লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, “গ্রামবাসীর অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ তার মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পরদিনই তার স্ত্রী বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বের করে দেন। বর্তমানে যে মেয়ের বাড়িতে তিনি থাকছেন, সেই পরিবারও অত্যন্ত অসচ্ছল।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুমা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, “বিষয়টি আমি এখন জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।”
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”