নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৫৪:২২
ঈদে ত্বকে স্বস্তি ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে যা করবেন
গ্রীষ্ম মানেই তীব্র গরম, আর্দ্রতা আর ঘামের অস্বস্তি। এই সময়ে ঈদে ভারী প্রসাধন বা অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক ক্লান্ত হয়ে পড়ে, রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। তাই গরমের ঈদে ত্বকের যত্ন ও মেইকআপ— দুটোই হওয়া উচিত হালকা, শ্বাস নেওয়ার মতো স্বাভাবিক এবং আরামদায়ক। ত্বককে আগে গুরুত্ব দিয়ে, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য সাজ— এই ধারণাই ঈদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত।
গরমের দিনে ত্বক বেশি ঘামে এবং তেল নিঃসরণও বেড়ে যায়। তাই প্রথমেই প্রয়োজন সঠিকভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখা। ভারী বা ক্রিমধর্মী পরিষ্কারক বদলে হালকা, পানি-ভিত্তিক পরিষ্কারক ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে, আবার অতিরিক্ত তেলও দূর হয়।
পরিষ্কারের পর ত্বককে শান্ত রাখা জরুরি। অ্যালোভেরা বা প্রাকৃতিক শীতল উপাদানযুক্ত কোনো হালকা জেল ব্যবহার করলে রোদে ক্লান্ত ত্বক দ্রুত স্বস্তি পায়। ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে ব্যবহার করলে ত্বকে বাড়তি প্রশান্তি আসে। আর্দ্রতা ধরে রাখা, কিন্তু ভারী নয় গরমে অনেকেই মনে করেন ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই। তবে এটি ভুল ধারণা। ত্বককে আর্দ্র রাখা প্রয়োজন, তবে সেটি হতে হবে হালকা গঠনযুক্ত। জেলধর্মী বা দ্রুত শোষিত হয় এমন পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক ভারী লাগে না এবং রন্ধ্রও বন্ধ হয় না। এই ধরনের পণ্য ত্বককে শুধু নরম রাখে না, বরং সূর্যের তাপে যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তা পূরণ করতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ হলে হালকা আর্দ্রতা প্রদানকারী পণ্য সবচেয়ে উপযোগী।
গরমের দিনে ত্বককে সতেজ রাখার জন্য মাঝেমধ্যে হালকা স্প্রে বা মিস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বককে তাৎক্ষণিক আর্দ্রতা দেয় এবং ক্লান্ত-ভাব দূর করে। ব্যাগে ছোট আকারে রাখলে বাইরে গেলেও সহজে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ঠাণ্ডা পাথর বা ম্যাসাজ যন্ত্র দিয়ে মুখে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফোলাভাব কমে এবং ত্বক আরও টানটান দেখায়। রোদ-পোড়া বা ক্লান্ত ত্বকের জন্য এটি বেশ উপকারী।
গরমে ত্বকের যত্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল- সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা। শুধু মুখ নয়, শরীরের উন্মুক্ত অংশেও সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় মুখে নিয়মিত সুরক্ষা ব্যবহার করলেও শরীরের কথা ভুলে যাওয়া হয়। এমন পণ্য ব্যবহার করা ভালো যা ত্বকে সহজে মিশে যায়, সাদা দাগ ফেলে না এবং ব্যবহার করতে বিরক্তি লাগে না।
গরমের দিনে ঈদ আসছে, এজন্য ভারী মেইকআপ ত্বকের জন্য কষ্টকর। তাই পূর্ণাঙ্গ মেইকআপের বদলে হালকা, প্রয়োজনমাফিক সাজই বেশি কার্যকর। ফাউন্ডেশন এড়িয়ে গিয়ে হালকা রংযুক্ত সুরক্ষা পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ত্বকের রং সমান করে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দেয়। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সামান্য কনসিলার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। এতে ত্বক স্বাভাবিক দেখায় এবং অতিরিক্ত স্তর জমে না। ই ধরনের মেইকআপ গরমে দীর্ঘসময় টিকে থাকে এবং সহজে গলে যায় না।
ঈদের দিনে স্বাভাবিক লালচে-আভা মুখে আলাদা প্রাণ এনে দেবে। ক্রিমধর্মী ব্লাশ ব্যবহার করলে তা ত্বকের সঙ্গে সহজে মিশে যায় এবং খুব প্রাকৃতিক দেখায়। গালে, নাকে, এমনকি চোখের পাতায়ও হালকা ব্যবহার করলে পুরো সাজে একটি সামঞ্জস্য তৈরি হয়। এই ধরনের পণ্য দ্রুত মুছে যায় না এবং ঘাম হলেও তুলনামূলক স্থির থাকে, যা গরমের দিনের জন্য উপযোগী।
গরমে চোখের মেইকআপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই জলরোধী মাসকারা বা দীর্ঘস্থায়ী আইলাইনার ব্যবহার করা ভালো। এগুলো ঘাম বা আর্দ্রতায় সহজে ছড়িয়ে পড়ে না। ক্রিমধর্মী আইলাইনার বা শ্যাডো ব্যবহার করলে সেটি সহজে ব্লেন্ড করা যায় এবং সেট হয়ে গেলে দীর্ঘসময় ঠিক থাকে। এতে করে বারবার ঠিক করার ঝামেলা কমে যায়।
গরমে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া সাধারণ সমস্যা। তাই এমন পণ্য ব্যবহার করা উচিত যা একসঙ্গে আর্দ্রতা দেয় এবং হালকা রংও যোগ করে। এতে ঠোঁট নরম থাকে এবং অতিরিক্ত কোনো স্তর যোগ করার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিক আভাযুক্ত ঠোঁট- পুরো সাজকে হালকা ও সতেজ রাখে, যা গ্রীষ্মের জন্য আদর্শ।
ঈদের দিনে মেইকআপকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হালকা পাউডার বা সেটিং স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি অতিরিক্ত তেল কমায় এবং মেইকআপকে স্থির রাখে। তবে অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক ও ভারী দেখাতে পারে, তাই পরিমিত ব্যবহারই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হালকা সেটিং স্প্রে ত্বকে উজ্জ্বলতা ধরে রাখে এবং মেইকআপকে দীর্ঘ সময় ঠিক রাখে বিশেষ করে ঈদের দিনের গরম ও আর্দ্র পরিবেশে।