নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:৪৮:৩১
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর ২৪ ঘণ্টায় ১০৩টি সামরিক অভিযান
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়ে ১০০টিরও বেশি সামরিক অভিযান সম্পন্ন করার দাবি করেছে।
২৭ মার্চ শুক্রবার হিজবুল্লাহর মিডিয়া শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের পরিচালিত ধারাবাহিক হামলার সংখ্যা ১০৩-এ পৌঁছেছে। এই ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহ অন্তত দুটি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করার পাশাপাশি সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে একজন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও পরে নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় তাদের ৭ম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৭৭তম ব্যাটালিয়নের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লেবানন সীমান্তে সংঘাত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহর রকেট হামলা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় জনপদগুলোতে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আপার গ্যালিলি অঞ্চলের মিতোলা বসতিসহ হাইফা উপসাগরীয় এলাকায় একযোগে বিপুলসংখ্যক রকেট আঘাত হানে।
হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইফা বে থেকে জারিয়েত এবং কারমেইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় অন্তত ৩০টি রকেটের একটি বহর আঘাত হানলে ওই অঞ্চলে জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলো এই আক্রমণকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে তীব্র হামলাগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করেছে। রকেট হামলার পাশাপাশি হিজবুল্লাহ ড্রোন এবং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তাদের আক্রমণাত্মক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে, তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে। এর মধ্যে অ্যাক্রি শহরের পূর্বে অবস্থিত এলিয়াকিম ও টিফন ঘাঁটি এবং হাইফা শহরের জেভ এয়ার ডিফেন্স ঘাঁটিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্তবর্তী কান্তারা উচ্চভূমি এবং ম্হাইসিবাত এলাকায় ইসরায়েলি সাঁজোয়া যানের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আরও একটি মেরকাভা ট্যাংক অকেজো করে দেওয়া হয়। নাকোরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে অত্যন্ত কাছাকাছি দূরত্বে সরাসরি সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে হিজবুল্লাহ ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর থেকে সংঘাতের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ জনে পৌঁছেছে এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৪০ জন।
সীমান্তের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই ১০৩টি অভিযান মূলত ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত প্রতিরোধের অংশ। যুদ্ধের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি