মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:৩৭:৪৫
টানা ছুটিতে মুখর মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পট
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার-এর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে প্রায় লাখো পর্যটকের আগমনে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি।
জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত এবং শ্রীমঙ্গল চা-বাগান এলাকাগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও গাইডসহ সংশ্লিষ্ট খাতের লোকজন এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মৌলভীবাজারে প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয়সহ লাখো পর্যটক আসেন। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন। কেউ ঝর্ণার পানিতে গোসল করছেন, কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেলফিতে বন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। স্থানীয় আলোকচিত্রীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।খাসিয়া পল্লি আর চা-বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। অনেকে প্রাইভেট কার নিয়ে আবার অনেকে দল বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পর্যটকবাহী ও সাধারণ পরিবহন, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ির কারণে শহরের মূল পর্যটন এলাকা ও সড়কগুলোতে যানজট তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বধ্যভূমি, হামহাম জলপ্রপাত, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, খাসিয়া পল্লি, পাত্রখোলা েেলকসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাসস্থলসহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কমলগঞ্জ ও বড়লেখা রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হয়েছে। এর মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৪ হাজার ৭২৪ জন পর্যটক টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মোট ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০৯ টাকা।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এখানে এসে মুগ্ধ হয়েছি। পাহাড় বেয়ে নামা ঝর্ণাধারা সত্যিই অসাধারণ। মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর পর্যটন স্পট রয়েছে, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে।’পরিবার নিয়ে মৌলভীবাজারে ঘুরতে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজ পাহাড়-জঙ্গল সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সময়টা খুব আনন্দে কাটছে।”
ঢাকা থেকে আসা মাহবুবুর রহমান নামে এক পর্যটক বলেন, ‘শহরের যানজট আর কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি।
লাউয়াছড়া টিকেট কালেক্টর শাহিন আহমদ জানান, ‘এ বনে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল। পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিনি জানান প্রায় ২ হাজার ৮ শ ৮৪ জন পর্যটক বনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। যা সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা।’
অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন,পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফের করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থানা-পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার, সদস্যরা কাজ করছেন।