নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:৪২:৪৭
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা তৃতীয়বার এনএসইউ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান খান
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
টানা তৃতীয় বছরের মতো এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে তিনি গবেষণাক্ষেত্রে নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক একাডেমিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার যৌথভাবে গত ৭ অক্টোবর এ তালিকা প্রকাশ করে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের স্ট্যানফোর্ড–এলসেভিয়ার ডেটাবেইসে বাংলাদেশের গবেষকদের মধ্যে ৩৭তম এবং বিশ্বব্যাপী ৩৯ হাজার ৫৭৩তম অবস্থানে রয়েছেন অধ্যাপক খান। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন।
অধ্যাপক খানের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইমেজ প্রসেসিং, নেটওয়ার্কিং ও টেলিযোগাযোগ। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন, আরএফ ও মাইক্রোওয়েভ ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যান্টেনা প্রযুক্তি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), মেশিন লার্নিং, কম্পিউটার ভিশন ও রোবোটিকস নিয়েও গবেষণা করছেন তিনি।
স্ট্যানফোর্ড–এলসেভিয়ারের এই তালিকা তৈরিতে গবেষকদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সূচক বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতির সংখ্যা, এইচ-ইনডেক্স, প্রকাশনার প্রভাব এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অবদান। এসব সূচকের ভিত্তিতে নিজ নিজ গবেষণাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখা বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন করা হয়।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান ঢাকার বিসিএসআইআর হাইস্কুল ও সরকারি বিজ্ঞান কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন (কিউএমইউএল) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে অনার্সসহ ব্যাচেলর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রিও লাভ করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেছিল কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন।
একজন শিক্ষক, গবেষক, প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক হিসেবে অধ্যাপক খান বিভিন্ন আন্তবিষয়ক গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, স্মার্ট সিটি, স্বয়ংক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগব্যবস্থা ও ডিজিটাল সেবায় উন্নত প্রকৌশল এবং বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই তাঁর গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য।
বিশেষ করে স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা ও টেলিমেডিসিনের মতো ক্ষেত্রে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকাশের পাশাপাশি সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান তৈরি করা।
অধ্যাপক খান বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প এবং দেশি-বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নে পরিচালিত উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি ৩৫০টিরও বেশি গবেষণামূলক প্রকাশনার রচয়িতা ও সহলেখক। এসব প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে পিয়ার-রিভিউড সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবন্ধ, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র এবং বিভিন্ন গ্রন্থের অধ্যায়।
শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা ও আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবেও অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা তৃতীয়বার স্থান পাওয়াকে অধ্যাপক খানের গবেষণাজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে বাংলাদেশের গবেষকদের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের গুরুত্বও সামনে এনেছে।