নতুন জেলা ও দায়রা জজের পদায়ন বাতিলের দাবিতে আইনজীবীদের আন্দোলন, এজলাসে হট্টগোলে ব্যাহত বিচারকাজ
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩:৪৯
বগুড়ায় আদালত বর্জন, সপ্তাহজুড়ে অচলাবস্থা
নতুন জেলা ও দায়রা জজের পদায়ন বাতিলের দাবিতে বগুড়ায় আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিচারিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে চলা কর্মসূচির মধ্যে মঙ্গলবারও এজলাসে হট্টগোলের কারণে স্বাভাবিকভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিচারক মো. মনিরুজ্জামান বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এজলাসে বসেন। এ সময় আইনজীবীদের একাংশ স্লোগান ও হট্টগোল শুরু করেন। মামলার শুনানিতে আইনজীবীরা অংশ না নেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় সাত মিনিট পর বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।
পরে আদালত এলাকায় ডিবি ও থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে দিনভর আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান বগুড়ায় যোগদানের দিনও তাঁর এজলাসে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল, বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীদের অভিযোগ, বিচারক মনিরুজ্জামান এর আগে বগুড়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম ও শাহীন হত্যা মামলার বিচার-সংশ্লিষ্ট বিষয়সহ কয়েকটি ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে দাবি করেন বার সমিতির নেতারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিচারকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীদের দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিচারক মনিরুজ্জামানকে বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁকেই আবার বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এই পদায়ন বাতিলের দাবিতে জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি গত ৬ জুলাই সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হয়। এরপরও গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ রেজাউর রহমান বলেন, “বিচারক মনিরুজ্জামানের পদায়ন বাতিল করে অন্য কোনো নিরপেক্ষ বিচারককে বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়নের দাবি জানিয়েছি।”
বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, পদায়ন আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ কারণে ওই এজলাসে আইনজীবীরা মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন না।
এদিকে বার সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবসহ চার আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যেও নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো তথ্য সামনে এনে তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, তিনি বৈধ সনদ ও লাইসেন্সের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বার-বেঞ্চের এই বিরোধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিচারপ্রার্থীদের ওপর। দূর-দূরান্ত থেকে আদালতে এসে অনেক বিচারপ্রার্থী কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত আইনজীবী ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির সমাধান করা জরুরি।