শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:১৭:৩৭
নদীভাঙন রোধ, রাস্তা সংস্কার ও স্পিডবোটের দাবিতে ডিসির কাছে স্মারকলিপি
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের নদীভাঙন রোধ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং মুমূর্ষ রোগীদের পারাপারের জন্য একটি স্পিডবোটের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের কাছে স্মারকলিপি দেন। পরে তারা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও একই দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যায় ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে গঙ্গাচড়া ও কালিগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। পাশাপাশি হাটবাজারে যাতায়াত এবং রোগী পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কাচারিপাড়া, ব্রিফ বাজার, চর বাগডোহারাসহ মিনারবাজার থেকে চরনোহালী হয়ে কালিগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বেড়িবাঁধের দুই পাশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন রোধে পাউবোর ফেলা জিওব্যাগ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেও দাবি করা হয়।
এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং মুমূর্ষ রোগীদের জন্য একটি স্পিডবোট বরাদ্দের দাবি জানান এলাকাবাসী।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, স্মারকলিপির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে একটি স্পিডবোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রসূতি, গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং পরীক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত মূল ভূখণ্ডে আনা-নেওয়া করা যায়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।