নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:২০:২৩
মতলবে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক সাময়িক বহিষ্কার
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রাড়ীকান্দি দারুসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসাটি পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি। ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তিনি সহকারী মৌলভী মো. মামুন মিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউএনও সরেজমিনে এসে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মামুন মিয়া রাড়ীকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, প্রায় দুই-তিন বছর আগে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে তাদের যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। অনেক সময় শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয় ও লজ্জার কারণে তারা বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি। একাধিকবার অন্য শিক্ষকদের জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানায়। ইউএনও সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় পাঠানো হলেও এমন ঘটনায় তাদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ভয় ও লজ্জায় এসব ঘটনা প্রকাশ করতে পারে না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মামুন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অনৈতিক কাজ করিনি।”
ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”