হীরা আহমেদ জাকির, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:২৮:০৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার প্রবণতা, উদ্বেগ সচেতন মহলে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও চক্র তরুণদের অনলাইন জুয়ার দিকে আকৃষ্ট করছে, যার ফলে অনেকে আর্থিক ও পারিবারিক সংকটে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাজি ধরার প্রচারণা বৃদ্ধি পায়। এসব প্ল্যাটফর্মে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের যুক্ত করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, পরিচিতদের মাধ্যমে তিনি অনলাইন বাজির সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথম দিকে কিছু লাভ হলেও পরে ধারাবাহিক লোকসানের কারণে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত সম্পদ হারাতে বসেন। বর্তমানে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন।
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। একপর্যায়ে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন জুয়ার কারণে তরুণদের মধ্যে আসক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও সামাজিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ এই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে সরকার সাইবার অপরাধ দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সম্প্রতি প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালায় অনলাইন জুয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প বিনোদন ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় চক্র শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।