নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১:০২:১৪
নওগাঁয় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অমান্য করে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগ
নওগাঁ শহরের হাট নওগাঁ এলাকায় মহামান্য হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অমান্য করে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবু সাঈদ মো. মুক্তাদুর নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, হাট নওগাঁ মৌজার জে এল নম্বর ১৪৫, আরএস খতিয়ান নম্বর ৪৫৩/৪৫৪ এবং দাগ নম্বর ৭১৬ ও ৭১৭-এর প্রায় ৮ শতক জমি পৈতৃক সূত্রে ভোগদখলে রয়েছে মুক্তাদুরের পরিবারের। ওই জমি নিয়ে বিবাদীদের সঙ্গে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা (সিভিল রিভিশন নং-৫২৪/২০১৫) চলমান রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর মধ্যেই গত ২২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত মো. মামুন, মো. তুহিন, মো. জিল্লুর রহমান, মো. তামজিদ ও মো. জাফরানসহ আরও ২০–২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘরের টিনের ছাউনি ও কাঠামো ভাঙচুর করে প্রায় ১০ থেকে ১১ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। একই সঙ্গে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়, যার মূল্য আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী বাড়িতে না থাকলেও তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায়।
পরে দুপুর ১টার দিকে বাড়ির সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ করেন মুক্তাদুর। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে তিনি রক্ষা পান। অভিযুক্তরা সুযোগ পেলে হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তাদুর বলেন, তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানা থেকে বিষয়টি কালীতলা ফাঁড়িতে পাঠানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, অভিযুক্তরা বাড়িতে এসে তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। “বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পরও পুলিশ নীরব কেন-আমি এর বিচার চাই,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে কালীতলা ফাঁড়ির এসআই মোশাররফের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি কালীতলা ফাঁড়িতে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।