নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৬:০৯:৪৭
‘প্রবাসীদের অবদান দেশের অর্থনীতি ও সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’
দেশের অর্থনীতি ও সমাজে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, প্রবাসীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও আইনগত সহায়তা সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। এতে প্রবাসী পরিবারগুলো সম্পত্তি, উত্তরাধিকার, পারিবারিক বিরোধ, প্রতারণা ও মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা মোকাবিলায় আরও সক্ষম হবে।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উপায়, প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের আর্থিক অনুদান ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
নাগরিক আইন সহায়তা (নাস) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং রেইজ প্রকল্প, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কয়কীর্তনের তাহমিদ কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটির সার্বিক স্পন্সর ছিল বে ওয়েভ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রেইজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক জাহিদ আনোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. শাহজালাল। নাস ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান তুহিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন নিউ অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, মুন্সিগঞ্জের প্রিন্সিপাল রিয়াজুর ইসলাম।
আলোচনা সভায় প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের বিভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও আইনগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রবাসে থাকা ব্যক্তিদের সম্পত্তি ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক সমস্যা, উত্তরাধিকার জটিলতা, প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়ম এবং দেশে চলমান মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা সহায়তা ও কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেওয়া আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদ আনোয়ার প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সেবার কথা তুলে ধরেন। তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মো. শাহজালাল প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের মাধ্যমে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সেবা ও সহায়তা পেতে পারেন, তা তুলে ধরেন। সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণে সঠিক তথ্য জানার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
নাস ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান বলেন, প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশে বিভিন্ন ধরনের আইনগত ও পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হন। এসব সমস্যা যথাযথ আইনগত পরামর্শ ও সহায়তার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে নাস ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান তুহিন বলেন, প্রবাসী পরিবার যেন সম্পত্তি, উত্তরাধিকার, পারিবারিক বিরোধ, প্রতারণা কিংবা মামলা সংক্রান্ত সমস্যায় অসহায় হয়ে না পড়ে, সেজন্য সচেতনতা ও প্রাথমিক আইনগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের আর্থিক সহায়তার মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে পরিবারগুলোকে জানানো প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে রিয়াজুর ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের অবদান দেশের অর্থনীতি ও সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের অধিকার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও আইনগত সহায়তা সম্পর্কে সচেতন করা হলে তারা বিভিন্ন জটিলতা মোকাবিলায় আরও সক্ষম হবেন।
সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।