নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৮:৪০:১৪
টুঙ্গীপাড়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্তি বাইনের স্বামী রুবেল বাইন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। বিবাহের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এলাকাবাসীর দাবি, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুবেল প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি উভয় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জানা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শান্তি বাইন স্বামীর নির্যাতন নীরবে সহ্য করতেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন রুবেল বাইন। টাকা না দেওয়ায় তিনি শান্তিকে বেধড়ক মারধর করেন এবং পেট ও বুকে গুরুতর আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় ওইদিন তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে বাড়িতেই আটকে রাখা হয়। পরদিন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাবার বাড়ির সদস্যরা এ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গোপালপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সরজিত বিশ্বাস ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা দাবি করেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে মামলা না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সরজিত বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে টুঙ্গীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আইয়ুব আলী জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এমন মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত শান্তি বাইনের পরিবার, তার দুই শিশু কন্যা এবং এলাকাবাসী।