রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৬:০০:০০
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হয়নি, বগুড়াও বঞ্চিত: ডা. শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যেখানেই অসংগতি দেখব, সেখানেই কথা বলব। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে—এটা ভাবিনি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক, এটা আমি চাই।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বগুড়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিলেন। সেই সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটে তাঁরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ওয়াদার বরখেলাপ করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলি, তখন সরকার স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। অথচ দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’
সংকট সমাধানে সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদের ভেতরে বারবার বলেও যখন কিছু করতে পারিনি, তখন বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।’ দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। এই সময় একটি জাতির জন্য কম নয়। মালয়েশিয়া ও জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কিন্তু বাংলাদেশ কোথায়?’
পাকিস্তান আমলে শোষণের পর স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আসা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আদমজী জুট মিল একসময় বিশ্বের বৃহত্তম পাটশিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেই গৌরব আর নেই। স্বাধীনতার পর অনেক কিছুই ‘হরিলুট’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তেল ও বিদ্যুৎ সংকটের সময় তাঁরা পাম্পে পাম্পে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকার সংকট অস্বীকার করেছে। সংসদের ভেতরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পেরে এখন পাঁচটি দাবির সঙ্গে আরও কিছু দাবি নিয়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে লংমার্চ চলছে।
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দিয়েছেন। এখন জনগণের ভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার শক্তি আমাদের কারও নেই’—বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াতের আমির বলেন, মাঝে মাঝে তাঁর বক্তব্য কাঁটছাঁট করে প্রচার করা হয়। তারপরও তিনি গণমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাঁর ভাষায়, ‘মিডিয়া হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে পাওয়ারফুল পিলার।’ গণমাধ্যম সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে রাষ্ট্রের অন্য স্তম্ভগুলোও সঠিক পথে চলতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি একটি সুন্দর দেশ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
মতবিনিময় সভায় বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে জামায়াতের আমির হোটেল মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন।