ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬ রাত ০৮:৫৭:৪০
পরপর দুই সংঘর্ষের ঘটনার পর ভৈরব থানার ওসি প্রত্যাহার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পরপর দুটি বড় সংঘর্ষের ঘটনার পর ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলীর নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ। এছাড়া ভৈরব শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমাম আল মেহেদীকেও জেলার কটিয়াদী থানার গচিহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ৪ জুন রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
এর মাত্র কয়েকদিন পর ১০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের কমলপুর এলাকার যুবকদের সঙ্গে দুর্জয়মোড় সংলগ্ন এলাকার যুবকদের সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত টানা সাড়ে চার ঘণ্টা চলা এ সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উভয় পক্ষ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল করে নেওয়ায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সংঘর্ষে ভৈরব থানার ওসি, এক পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী। তিনি ১৫ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনমনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৈরবে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে সংঘর্ষকারীরা রেলওয়ে স্টেশন ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে সরকারি স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও পথচারী।
তবে ওসি প্রত্যাহারের বিষয়ে ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ বলেন, “পুলিশ সুপার প্রয়োজন অনুযায়ী এক থানা থেকে অন্য থানায় ওসি বদলি বা প্রত্যাহার করতে পারেন। সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে ওসি পরিবর্তনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ।”