রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০:০৬:১৮
সারের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট করলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী
সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি কিংবা গুজব ছড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
তিনি বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। বগুড়াতেও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তাই কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বগুড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গোডাউন এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বাফার গোডাউন আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সার সরবরাহ, উত্তোলন ও ডিলারদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত এ কমিটিতে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং তিনি নিজে রয়েছেন। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডিলার পরিবর্তন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, পুরোনো ডিলারদের সরিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে ডিলারদের মধ্যে অসন্তোষ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী ইতোমধ্যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিআইসি ও বিএডিসির বর্তমান মূল ও খুচরা ডিলাররাই কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
তবে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব ডিলার সার উত্তোলনের জন্য ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) করেও সার উত্তোলন করছেন না অথবা সার উত্তোলন করে গোডাউনে আটকে রেখে বাজারে সরবরাহ করছেন না, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিলার সমিতির শীর্ষ নেতারাও এ উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন।
কৃষকদের আগাম অতিরিক্ত সার না কেনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বগুড়াসহ সারাদেশে চাহিদার তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। বগুড়ায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কিন্তু বিশেষ করে আলু চাষিরা আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করছেন। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের প্রয়োজনীয় সার এখনই কিনতে শুরু করলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হয় এবং দামও বেড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি জেলায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চাহিদা অনুযায়ী সার পৌঁছে দেওয়া হবে। তাই কৃষকদের অযথা বাড়তি দামে আগাম সার না কেনার অনুরোধ জানান তিনি।
ডিলারদের দীর্ঘদিনের কমিশন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ সালের পর থেকে ডিলারদের কমিশন আর বাড়ানো হয়নি। এর মধ্যে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় কমিশন বৃদ্ধির যে প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কমিশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
গোডাউন পরিদর্শনকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মাহফুজ আলমসহ কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।