ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৩:৫৫
ঘোড়াঘাটে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুই শিক্ষিকাকে হয়রানির অভিযোগ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলওয়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং দুই সহকারী শিক্ষিকাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে।
গত ১৪ জুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুর নাহার ও সিনথিয়া আফরিন লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তারা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির চিত্র তুলে ধরেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ফ্যান, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ব্যাটারি ও পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার ফি ও সনদপত্রের নামে অর্থ আদায়, জাতীয় দিবসের বরাদ্দের অপব্যবহার, টিফিন কর্মসূচিতে অনিয়ম, নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের নামে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দুই শিক্ষিকার দাবি, অভিভাবক সমাবেশে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয় এবং স্থানীয় আদিবাসী অভিভাবকদের কাছে তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা হয়। তারা জানান, গত ১১ জুন ক্লাস বিরতির সময় ফলাফল শিট পর্যালোচনার ছবি তুলে প্রধান শিক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘ক্লাস বাদ দিয়ে গল্প চলছে’ মন্তব্যসহ প্রচার করা হয়। একইভাবে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা তদারকির সময় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে এবং তারা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
সহকারী শিক্ষিকা সিনথিয়া আফরিন বলেন, এসব ঘটনার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অভিযোগকারী দুই শিক্ষিকা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মীমাংসাও হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, গত রমজান মাসে বিদ্যালয়ের দুটি পানির ট্যাংক নষ্ট হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো নিজের বাড়িতে রাখা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের কিছু যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ায় সেগুলো মেরামতের জন্য মেকানিকের কাছে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি সম্পদ যথাযথ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া ব্যক্তিগত জিম্মায় রাখা কতটা বিধিসম্মত। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিআই) ইন্সপেক্টর মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১৭ জুনের ১৫৪ নম্বর স্মারকের আলোকে তদন্তের দায়িত্ব পান তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জুন এবং ৩০ জুন দুই দফায় বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন বিষয় গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় লাগবে। তাই এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।