মো. আলমগীর হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:০৬:০২
মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগে থানার সামনে বিএনপি নেতার ফেসবুক লাইভ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে থানায় লিখিত আবেদন দিলেও মামলা (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি—এমন অভিযোগ তুলে নবীনগর থানার সামনে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি (লাইভ) বক্তব্য দেন নাজমুল করিম।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন ও পদপ্রার্থিতা ঘিরে বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির এক পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে লাঞ্ছিত ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় তিনি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বিষয়টি তুলে ধরেন।
লাইভ বক্তব্যে নাজমুল করিম অভিযোগ করেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে গড়িমসি করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
থানার সামনে থেকে করা তার এই ফেসবুক লাইভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্যের মাধ্যমে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এ ঘটনার পর নবীনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে অভিযুক্ত পদপ্রার্থীর সমর্থক ও নাজমুল করিমের অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দলীয় শীর্ষ নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে নবীনগর থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগে অভিযুক্ত শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির ওই পদপ্রার্থীর প্রতিক্রিয়াও জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।