মনজু বিজয় চৌধুরী,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০১:৫৩:৫৯
মৌলভীবাজারে ডাকাতের গুলিতে ডাকাত গুলিবিদ্ধ, পাইপগান ও ২১ রাউন্ড গুলিসহ আটক
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাত দলের ছোড়া গুলিতে আরেক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার ১৩ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাউরভাগ গ্রামের মাজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়া এক ডাকাতের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
আটক ডাকাত দলের সদস্যের নাম সৈয়দ শামসুর রহমান ওরফে আতিক। তাঁর গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া এলাকায় হলেও পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বর্তমান অবস্থান হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে আরও তিনটি মামলা রয়েছে।
তবে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বৃষ্টি ও বৈশাখী ঝড়ের আভাস পেয়ে বাউরভাগ গ্রামের লোকজন মাছ ধরতে টর্চলাইট নিয়ে বের হয়। এ সময় সাজ্জাদ মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি কবরস্থানের পাশে অন্ধকারে ৪ থেকে ৫ জন অচেনা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।
তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চান। এ সময় তারা দৌড়ে পালাতে শুরু করে। পরে গ্রামবাসীর চিৎকারে আরও লোকজন জড়ো হলে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে কাদামাটির মধ্যে ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা।
এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়ে। তবে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক ডাকাতের শরীরেই লাগে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা গাজী আবেদ বলেন,“রাতে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় অচেনা কয়েকজনকে দেখে আমরা সন্দেহ করি। পরে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা দৌড়ে পালায়। তখন একজনকে ধরে ফেলি। অন্যরা পালানোর সময় গুলি ছুড়তে থাকে, কিন্তু সেই গুলিই গিয়ে আটক ব্যক্তির শরীরে লাগে।”
খবর পেয়ে শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশ ও মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর হাতে আটক ওই ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ প্রহরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের জানান, “পালিয়ে যাওয়া ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর সময় একজনকে গ্রামবাসী ধরে ফেলেছে।”