শামীম আহমেদ জয়, মতলব প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬ রাত ১০:৫৩:২০
মতলব উত্তরে জমি নিয়ে বিরোধ: গাছ কাটার অভিযোগে আদালতে মামলা
উপজেলার খন্দকার কান্দি গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তর আমলি আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী খন্দকার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান। মামলায় একই গ্রামের শাহীন, মোক্তার, নাজমুলসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ নম্বর ধনারচক মৌজার বিএস ৪১৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বিএস ৯৬১ নম্বর দাগে মোট ১৪ শতাংশ জমির মধ্যে বাদীর পিতা মৃত তৈয়ব আলী শিকদার ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করলেও অবশিষ্ট জমিতে আম, নারিকেল, সুপারি ও বাঁশসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করে দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন তার ছেলে হাবিবুর রহমান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে একটি আম গাছ, তিনটি নারিকেল গাছ, ১৮টি সুপারি গাছ এবং একটি বাঁশঝাড়সহ মোট ২৩টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গাছ কাটার ঘটনায় বাধা দিতে গেলে আসামিরা দা ও কুড়াল নিয়ে বাদীর দিকে তেড়ে আসে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ১৯৮৯ সালে রায় ঘোষণার পর ১৯৯০ সালে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। দীর্ঘ ২৭ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে আপিল মামলার নিষ্পত্তি হয়।
বাদী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার বাবা কদম আলী জমাদারের কাছ থেকে ৭ শতাংশ এবং জলিল জমাদারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে আরও ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। পরে তিনি ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করলেও গাছগুলো যে অংশে ছিল, সেটি আমাদের দখলে ছিল এবং দলিল অনুযায়ী আমরা ওই অংশের বৈধ মালিক। সম্প্রতি আমার মা মারা যাওয়ার পর আমি বাড়িতে না থাকায় প্রতিপক্ষরা সুযোগ নিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলেছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী শাহীন ও মোক্তার হোসেন। তারা বলেন, “হাবিবের বাবা জীবিত থাকতেই বিএস ৯৬১ দাগের ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে গিয়েছেন। দলিলের চৌহদ্দি অনুযায়ী জমিটির পশ্চিমাংশ আমাদের মালিকানাধীন। আমাদের জমির মধ্যেই গাছগুলো ছিল এবং সেখানে খামার স্থাপনের পরিকল্পনা থাকায় আমরা গাছ কেটেছি। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। আমরা আদালতেই আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব এবং ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি।”
মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।