রাকিবুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:২১:৩২
খাল খনন কর্মসূচিতেই ফিরবে সমৃদ্ধি, হবে নতুন জাগরণ: পানিসম্পদমন্ত্রী
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উত্তর জয়পুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়, যা অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় কাইচ্চা বাড়ি এলাকা থেকে মনোহরপুর হাজির ব্রিজ হয়ে ইউছুফপুর রহমতখালী খাল পর্যন্ত খনন কার্যক্রম শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কাজের সূচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো অবহেলা ও দখলের কারণে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্য অপসারণ করে এসব খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জন্য পানি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল পুনঃখননের ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়বে, যা ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি মাছ, শাকসবজি, নারিকেল ও সুপারি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী জানান, রহমতখালী, ওয়াপদা খাল ও ভুলুয়া নদী পুনঃখননের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নদী ও খালের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষা খাত নিয়েও বক্তব্য দেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত না হলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়। তাই স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, মন্ত্রীর একান্ত সচিব জামশেদ আলম রানা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।