নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৯:৩১
মতলব উত্তরে পরকীয়ার জেরে বৃদ্ধা শাশুড়ি হত্যা: পুত্রবধূ ও প্রেমিক আটক
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে বৃদ্ধা পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ হালিমা আক্তার (২৭) ও তার প্রতিবেশী আশরাফুল ইসলাম মিঠু (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় হত্যা ও দস্যুতা মামলা দায়ের করেছেন।
রোববার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও থানার তদন্ত পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটি ডাকাতি বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে পরকীয়াসংক্রান্ত পরিকল্পিত হত্যার বিষয়টি উঠে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হালিমা আক্তার ও আশরাফুল ইসলাম মিঠু হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে ইতালি প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক আশরাফুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে মিঠু হালিমাকে দিয়ে পারুল বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে হালিমা রাজি না হলে বিষয়টি স্বামীকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন মিঠু। একপর্যায়ে পরিকল্পনায় সহযোগিতা করতে হালিমাকে রাজি করানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠু গোপনে প্রবাসী নুর ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে পারুল বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে হালিমার হাত-পা বেঁধে রাখা হয় বলে জানায় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কাছ থেকে পারুল বেগম ও হালিমার বিষয়ে জানতে পারেন। পরে ঘরে ঢুকে পারুল বেগমকে উপুড় অবস্থায় এবং হালিমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন।
নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করেন, তাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না। পরকীয়ার জেরে তার মাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।