রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৮:১১:১২
পাঁচ জেলার রোগীর ভরসা, ২০ শয্যাতেই আটকে বগুড়া বক্ষব্যাধি হাসপাতাল
বগুড়ায় বক্ষব্যাধির চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। বগুড়া ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি জেলার রোগীরা চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। কিন্তু রোগীর চাপ বাড়লেও দীর্ঘ দুই দশকে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়েনি। মাত্র ২০টি শয্যা নিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। একই সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট। হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল এবং মাদকসেবনের অভিযোগও রয়েছে।
বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায় হাসপাতালটির অবস্থান। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ভবনের চারপাশের বড় অংশ অনেকটা অপরিচ্ছন্ন ও জঙ্গলাকীর্ণ। নির্জনতার সুযোগে সেখানে বহিরাগতদের আড্ডা বসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর হাসপাতাল এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে চিকিৎসক, নার্স, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অথচ অনুমোদিত শয্যা মাত্র ২০টি। রোগীর তুলনায় চিকিৎসকও অপ্রতুল। বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন সিনিয়র মেডিকেল অফিসার দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
শুধু বগুড়া জেলার রোগী নয়, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে সীমিত শয্যা ও জনবল দিয়ে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
হাসপাতালের আরেকটি সমস্যা হলো ইনডোর ও আউটডোর সেবা পৃথক স্থানে থাকা। বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের বহির্বিভাগ পরিচালিত হলেও নিশিন্দারায় রয়েছে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিশিন্দারা এলাকায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জন্য ১৯৬০ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামো ও শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়নি।
হাসপাতালের চিকিৎসক সাঞ্জাদা-উল-হক বলেন, শয্যা ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে চাপ রয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের মাদকসেবনের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. রুহুল আমিন বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন মেডিকেল কর্মকর্তা নিয়মিত সেখানে রোগী দেখবেন।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, জাতীয় সংসদে বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে। শয্যা ও চিকিৎসক বাড়ানো গেলে বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ হবে।