নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:৪০:১৩
নাজিরপুর হাসপাতালের রোগীদের খাবারের অর্ধেক যায় ঠিকাদারের ও কর্মকর্তার পেটে
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ভর্তির সংখ্যা নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের দাপ্তরিক হিসাবে ভর্তি রোগীর সংখ্যা মার্চ মাসের পাচঁ দিনের তিন দিন ৫০ জন ও ৪ তারিখ ৪৫জন এবং ৫তারিখ ৪৩জন দেখানো হলেও আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাস্তবে রোগীর সংখ্যা তার অর্ধেকেরও কম।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত
বেড ফাঁকা রয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তালিকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৩ জন উল্লেখ করা
হয়েছে। বাস্তবে অর্ধেক বেড’ই
খালি।
সরেজমিনে হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড ঘুরে
দেখা যায়, কয়েকটি বেডে রোগী থাকলেও অনেক বেড ফাঁকা পড়ে রয়েছে। উপস্থিত কয়েকজন রোগী
ও স্বজনরা জানান, হাসপাতালে সাধারণত রোগীর চাপ খুব বেশি থাকে না। তবে কাগজপত্রে বেশি
রোগী দেখানোর বিষয়টি তারা জানেন না।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক রোগীর সপ্তাহে পাঁচ দিন
দুই বেলা ১২৮ গ্রাম মুরগির মাংস বা মাছ পাওয়ার কথা। বাকি দুই দিন ডিম বা মাছ। বাস্তবে
একজন রোগী দুই বেলায় ৫০ গ্রামের বেশি মাছ-মাংস পান না। বাজারে মাছের দাম বেশি হওয়ায়
প্রায় দিনই মাছের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি।
দরপত্রের শর্ত অনুয়ায়ী, ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীপ্রতি
প্রতিদিনের বরাদ্দ (সকালে নাশতা, দুপুর ও রাতে ভাত) ১৭৫ টাকা। বিশেষ দিবসে এ বরাদ্দ
বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ টাকায়। দুপুরে ও রাতে ২৮-ইরি চালের (সরু পোলাউ চাল) ৩৩০ গ্রাম ভাত
দেওয়ার কথা। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে আরও নিম্নমানের স্বর্ণা ইরি চাল। ডাল দেওয়া হচ্ছে পানির
মতো। মাঝে মধ্যে সবজি দেওয়া হয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন দুই বেলার বরাদ্দ ৬৩.৬৬ গ্রাম করে
মাছ বা মাংস। দুই দিন একই পরিমাণ মাছ বা ডিম দেওয়ার কথা। সকালে দুই পিস পাউরুটি, একটি
সেদ্ধ ডিম ও একটি পাকা সবরি কলা দেওয়ার কথা। কিন্তু ভাত, মাছ-মাংস সবই পরিমাণে খুব
কম দেওয়া হচ্ছে। কলার আকার ছোট, পাউরুটিও সরবরাহ হচ্ছে নিম্নমানের। রান্নার মান এত
খারাপ, খেতে রোগীরা আগ্রহী হয় না। খাবার নিয়ে অভিযোগ দিলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে
না হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে খাবার বিষয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা
হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয় না।
সকালের নাশতার জন্য দুই পিস পাউরুটি, একটি ডিম, সামান্য চিনি ও ছোট কলা দেওয়া হয়। দুপুরে
মোটা চালের ভাত দেওয়া হয়। খাওয়া যায় না। ডাল পানির মতো পাতলা। মুরগির মাংস দেওয়া হয়
৫০ গ্রামেরও কম। মাছের দাম বেশি হওয়ায় তা ১৫ দিনে এক দিনও জোটে না। ব্রয়লার মুরগি দিয়েই
চালিয়ে দেওয়া হয়। খাসির মাংস মেলে কালেভদ্রে।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা ডাক্তার মশিউর রহমান জানান, খাবারের বিষয়টি ঠিকাদারের ব্যাপার আরাফাত জানে,
হাসপাতালের রোগী ভর্তির বিষয়টি আরএমও এর ব্যাপার আমি কিছু জানি না।
এবিষয়ে আর এম
ও ডাক্তার মো: মোস্তাফা কায়সারের নিকট জানতে চাইলে তিনি নিউজ করতে নিষেধ করেন এবং বলেন
আপনাদের বিষয়টি দেখব ভাই।
খোঁজ নিয়ে জানাযায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ইসতিয়াক
কন্সট্রাকশন,যার সত্বাধীকারী উপজেলা চেয়ারম্যান এর সি.এ মো: ইয়াসির আরাফাত এর বোন জামাই
মো: রেজাউল করিম মোল্লা, পরিচালনা করেন সি.এ আরাফাত নিজেই, বিলের চেকে ও স্বাক্ষর করেন
আরাফাত।
এ বিষয়ে মুরগীর খামারী মো:রেজাউল করিম মোল্লার ফোনে কল
দিলে রিসিভ করেন তার স্ত্রী সাংবাদিক পরিচয় শুনে উচ্চস্বরে গলাবাজী করে বলেন, লাইসেন্স
আমাদের হাসপাতালে আমরা মাঝে মাঝে যাই, খাবারের রুটিন জানতে চাইলে জানান, আমার ভাই আরাফাত
জানে, আপনারা কেন ডিষ্ট্রাব করেন, কিচান আপনারা, এর আগেও একবার নিউজ করছেন কিছু করতে
পারছেন ? আপনাদের চেয়ে দুদুক ভালো বলে লাইন কেটে দেন, ।
এবিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সি.এ ইয়াসির আরাফাতের
সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নাই।
এবিষয়ে পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো: মতিউর রহমান,
জানান, বিষয়টি অব্যশ্যই আপত্তিকর, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো: আবু সাঈদ জানান, সরকারি
চাকরি করে অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় থাকার সুযোগ নাই, আমাকে কয়েকটি পয়েন্ট দেন আমি আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহন করব।