গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৫:১৫
গুরুদাসপুর চলনবিলে ডিঙির রাজত্ব, হাটে হাটে জমজমাট নৌকার বাজার
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুরে আত্রাই ও নন্দকুজা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর পানি তীর উপরে বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় চারদিকে সৃষ্টি হয়েছে জলমগ্ন পরিবেশ। এতে যাতায়াত ও মাছ ধরার প্রধান বাহন হিসেবে ডিঙি নৌকার চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে উপজেলার চাঁচকৈড় হাট ও আশপাশের নৌকা তৈরির কারখানাগুলোতে এখন চলছে ব্যস্ততম সময়।
সরেজমিনে চাঁচকৈড় হাটে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন আকারের ডিঙি নৌকা। শিমুল, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, কাঁঠাল, আম ও নিমসহ বিভিন্ন কাঠ দিয়ে তৈরি নৌকা সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা কাঠের মান ও কারিগরি নৈপুণ্য যাচাই করে দরদাম শেষে পছন্দের নৌকা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের জানান, সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বসা চাঁচকৈড় হাটে বর্ষা মৌসুমে শতাধিক ডিঙি নৌকা কেনাবেচা হয়। এবার আগাম পানি প্রবেশ করায় মৌসুমের শুরু থেকেই বিক্রি বেড়েছে। হাটজুড়ে এখন কারিগর, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
কারখানার মালিক ইয়ারুল, শামীম, জাহাঙ্গীর হোসেন, মনিরুল ও আমিরুল বলেন, কাঠ, লোহা, প্লেনশিটসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও বর্ষা মৌসুমের বাড়তি চাহিদার কারণে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কারিগর আলাউদ্দীন, পরিতোষ, আবদুল মজিদ ও মাসুদ মোল্লা জানান, গত বছর চলনবিলে পানি কম থাকায় নৌকার বাজার ছিল অনেকটাই মন্দা। তবে এবার গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেও চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিটি নৌকা তৈরিতে তারা প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাচ্ছেন।
বর্তমানে সাধারণ ডিঙি নৌকা ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা এবং প্লেনশিটযুক্ত নৌকা ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ১০ থেকে ১২ হাতের সাধারণ নৌকা ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা এবং ১২ থেকে ১৫ হাতের নৌকা ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্লেনশিট ব্যবহার করলে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়।
সিংড়া, তাড়াশ, গুরুদাসপুর ও চাটমোহর থেকে নৌকা কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বর্ষাকালে যাতায়াতের পাশাপাশি মাছ ধরার কাজে নৌকার বিকল্প নেই। তবে গত বছরের তুলনায় এবার নৌকার দাম কিছুটা বেড়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
চাঁচকৈড় হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম মিঠু ও উপজেলা ফার্নিচার পট্টি মালিক সমিতির সভাপতি শামীম বলেন, চাঁচকৈড়ের তৈরি ডিঙি নৌকার সুনাম দীর্ঘদিনের। প্রতি হাটে গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি নৌকা বিক্রি হয়। এছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এখানে এসে নৌকা কিনে নিয়ে যান।